আবুল খায়ের স্বপন, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পারিবারিক কবরস্থানে আজ সোমবার ভোর ৪টাই জানাযা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান ওরফে মাসুদ (৩৪) এর মরদেহ। হাফিজুরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে দেখা দেয় শোকের মাতম।এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত হাফিজুর রহমান ওরফে মাসুদ কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের খাড়েরা গ্রামের হাফেজ মজিবুর রহমানের ছেলে। দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে হাফিজুর রহমান দ্বিতীয়। বড় ভাই হাবিবুর রহমান একটি ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরী করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একমাত্র ছোট বোন মন্নি আক্তার কসবা টি.আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিহতের পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হাফিজুর রহমান পরিবারের লোকজনদের সাথে ঈদ করতে ঈদের আগের দিন বাড়িতে আসেন। ঈদ শেষে পরের দিন শনিবার (১৫ মে) আবারও ঢাকায় চলে যান। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্জুন হল এলাকায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। ওই রাতেই তার মায়ের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। মা আমি ঢাকায় পৌছেছি এটাই ছিল মায়ের সাথে তার শেষ কথা। তারপর থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরদিন হাফিজুর রহমানের মা সামসুন্নাহার বেগম কসবা থানায় একটি নিখোঁজের জন্য সাধারণ ডাইরী করেন। সেই ডাইরীর পথ ধরে কসবা থানা পুলিশ তাকে ঢাকার শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। শাহবাগ থানায় তঁার বড় ভাই হাবিবুর রহমান যোগাযোগ করলে ওই থানার পুলিশ হাফিজুরের মৃত্যুর একটি ছবি দেখালে হাবিবুর রহমান তার ভাই হাফিজুর রহমানের লাশ সনাক্ত করেন।
লাশটির ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার রাত ৩টার দিকে হাফিজুর রহমানের মরদেহ নিয়ে আসা হয় তারঁ গ্রামের বাড়িতে। রাত ৪টার দিকে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তঁার লাশ দাফন করা হয়।
নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে এক হৃদয় বিধারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। ছেলেকে হারিয়ে মা সামসুন্নাহার, বোন মুন্নি আক্তার বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। নিকট আত্নীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাঁকে হারিয়ে সবাই নির্বাক। তার পরিবারে লোকজন ও এলাকাবাসী হাফিজের মৃতুর্যর রহস্য উদঘাটনের দাবী জানান।
মা সামসুন্নাহার বলেন, ছেলে আমাকে ফোন করে বলেছিল মা আমি ঢাকায় পৌছেছি। আমি আবার বাড়িতে আসব। কিন্তু এর পর থেকে আমার ছেলেকে আর পায়নি। আমার ছেলে কিভাবে মারা গেল তঁার রহস্য উদঘাটনের দাবী জানাচ্ছি।
নিহতের চাচাত ভাই আবুল ওয়াফা বলেন, হাফিজুর রহমান আমাদের বাড়ির সবচেয়ে মেধাবী ছিল। চাচা কোরআনে হাফেজ। কিন্তু শারীরিক ভাবে অসুস্থ। তাঁর উপর নির্ভর ছিল পরিবারটি। সেই মেধাবী ভাইটিকে হারিয়ে পরিবারটি একেবারে নিঃস হয়ে গেছে। তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবী করছি সরকারের কাছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া বলেন, হাফিজুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা সামসুনাহার একটি সাধারণ ডাইরী করেছিলেন। ওই ডাইরীর প্রেক্ষিতে অনলাইনে মুঠোফোনের তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজনকে ঢাকার শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা শাহবাগ থানায় প্রাথমিক তথ্যাদি প্রেরণ করেছি। ওই থানার পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে।
Leave a Reply